মানিকগঞ্জে প্রতি বিঘা পেঁয়াজ চাষে খরচ লাখ টাকা

মানিকগঞ্জে এক বিঘা জমিতে গুটি পেঁয়াজ চাষে খরচ লাখ টাকা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এই খরচের জন্য লোকসানের আশঙ্কায় আছেন তারা।

 

মানিকগঞ্জে প্রতি বিঘা পেঁয়াজ চাষে খরচ লাখ টাকা

 

মানিকগঞ্জের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক মণ গুটি পেঁয়াজ কিনতে কৃষককে গুণতে হচ্ছে ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা। আকার ও মানভেদে এক বিঘা জমি আবাদ করতে তাদের প্রয়োজন হয় ৩ থেকে ৬ মণ পেঁয়াজ। এর সঙ্গে রয়েছে সার, কীটনাশক, পরিবহন, সেচ ও শ্রমিক খরচ। পেঁয়াজ ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে যাবে। গুটি পেঁয়াজের দামের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে চাষিরা। এরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি বিষয় রয়েছে। যদি বিধি বাম হয় তবে অনেক কৃষকই সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।

 

 

শিবালয় উপজেলার কৃষক ভৈরব পাইন বলেন, তিনি ১৫ দিন আগে ১২ হাজার টাকা মণ দরে গুটি পেঁয়াজ কিনে চাষ করেছেন। এখন দাম অনেক বেড়ে গেছে। চিকন সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। যার ১ মণ পেঁয়াজের দাম পড়ে ২৮ হাজার টাকা। আকাশছোঁয়া দামের পরও গত বছরের তুলনায় এ বছর পেঁয়াজের আবাদ অনেক বেড়েছে।

গত বছর পেঁয়াজের বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা লোভের বশে অন্য ফসলের আবাদ কমিয়ে দিয়ে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। বাংলাদেশের পেঁয়াজের দর অনেকটা নির্ভর করে আমদানির ওপর। যদি বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি পর্যাপ্ত হারে করা হয় তবে দেশের বাজারে ২ হাজার টাকার বেশি দাম হওয়ার কথা নয়। এ অবস্থায় তখন কৃষকদের লোকসানের হিসাব কষতে হবে। এই মৌসুমে গুটি পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও জেলা ভোক্তা অধিকারের পক্ষ থেকে একদিনের জন্য বাজার মনিটরিং করা হয়নি। এর ফলে যে যেভাবে পারছে ব্যবসা করছে।

ঘিওর উপজেলার চৌবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক সন্তোষ মিয়া ও শাহিনুর হোসেন শায়ের বলেন, গত বছরের তুলনায় গুটি পেঁয়াজ, শ্রমিকের মজুরি, সেচ, পরিবহন খরচ, সার-কীটনাশকসহ সবকিছুর দামই বেড়েছে। সবমিলিয়ে এ বছর এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।

হরিরামপুর উপজেলার কৃষক আবেদ আলী বলেন, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না পেঁয়াজ ওঠানোর পর এর বাজারদর কেমন হবে! বিঘাপ্রতি এখন যে পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে তাতে ৫ হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলে কৃষকের মোটামুটি লাভ হবে। কিন্তু দামের নিশ্চয়তা না থাকায় প্রত্যেক কৃষকই শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। পেঁয়াজের দামের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল জানান, গত সপ্তাহেও তিনি বরংগাইল বাজার মনিটরিং করে এসেছেন। তখন পেঁয়াজের দর ছিল ৬-৭ টাকা মণ। ১ মণ গুটি পেঁয়াজের দাম কোনোভাবেই ২০ হাজার টাকা হতে পারে না। দুয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় বাজার মনিটরিং করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদের পক্ষ থেকে উপসহকারী কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, গত বছর গুটি পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর। গত বছরের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রাই এ বছর লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর পেঁয়াজের বাজারদর বেশি হওয়ায় এ বছর বেশির ভাগ কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। গুটি পেঁয়াজের বাজার মনিটরিংয়ে তার দপ্তর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

Leave a Comment