বালু তোলায় ঝুঁকিতে স্থাপনা ইজারা বাতিলের দাবি,যে স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে, এর ৪০০ থেকে ৬০০ গজের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরে ধলেশ্বরী নদী থেকে দেদার বালু তোলা হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি খাদ্যগুদাম, শত বছরের পুরোনো হাটবাজার, মহাশ্মশানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন
স্থানীয় লোকজন। এমন পরিস্থিতিতে বালুমহাল ইজারা বাতিল এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাসিন্দা ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।

বালু তোলায় ঝুঁকিতে স্থাপনা ইজারা বাতিলের দাবি
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল উপজেলা সদরে ঘিওর-কুস্তা-চর বাইলজুরী বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দেওয়া সম্ভাব্য ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৪ টাকা। উদ্ধৃত দরমূল্য ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বালুমহালটি ইজারা পায় মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এর স্বত্বাধিকারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে বালু তুলে তা ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করছেন।এর মধ্যে বালুমহালটির ইজারা বাতিলে গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এতে যাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামীম মিয়া, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শচীন্দ্রনাথ মিত্র, ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলামসহ অনেকের।গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘিওর সরকারি কলেজের পেছনে নদী থেকে দুটি মাটি কাটার যন্ত্র
রাখা হয়েছে। রাতে এসব যন্ত্র দিয়ে কলেজের পেছন থেকে বালু কেটে ডাম্পট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। বালুবাহী ভারী এসব ট্রাক চলাচলের কারণে কলেজের মাঠের পূর্ব পাশের অংশ দেবে গেছে। যে স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে, এর ৪০০ থেকে ৬০০ গজের মধ্যে সরকারি কলেজ, সরকারি খাদ্যগুদাম, হাটবাজার, সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও কৃষিজমি রয়েছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু তোলা নিষেধ রয়েছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় পয়লা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, নদীর পারে তাঁর ১৫৩ শতক ফসলি জমি রয়েছে। এভাবে বালু তোলার কারণে তাঁর ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। কুস্তা ঘিওর মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার আইচ বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় নদীর তীরে ১৩০ শতক জমিতে মহাশ্মশানটি গড়ে তোলা হয়েছে।
সনাতন ধর্মের মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এই শ্মশানে করা হয়। শ্মশানের উত্তর পাশে বালু তোলা হচ্ছে। এতে এই মহাশ্মশানটি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।ইজারাদার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বলেন, নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরের বালু কাটার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যক্তি স্বার্থের কারণে কেউ কেউ বালুমহালের বিরোধিতা করতে পারেন।
বালুমহাল বন্ধে লিখিত আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কারিগরি কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সেখানে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। আপাতত বালুমহাল ইজারা বাতিলের বিষয়ে পরিকল্পনা নেই।

১ thought on “বালু তোলায় ঝুঁকিতে স্থাপনা ইজারা বাতিলের দাবি”